রবিবার, ১২ জুলাই, ২০২৬, ১০:৩৬:৪২

পানি বাড়ছে হু হু করে, প্লাবিত হচ্ছে একের পর এক গ্রাম

পানি বাড়ছে হু হু করে, প্লাবিত হচ্ছে একের পর এক গ্রাম

এমটিনিউজ২৪ ডেস্ক : টানা চার দিনের বৃষ্টিপাত এবং উজান থেকে নেমে আসা পানিতে কুশিয়ারা নদীর পানি বিপৎসীমার ১৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে নদীর তীরবর্তী জগন্নাথপুর উপজেলার পাইলগাঁও, রানীগঞ্জ ও আশারকান্দি ইউনিয়নে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, পানির তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় উপজেলার রানীগঞ্জ ইউনিয়নের বালিশ্রী-রৌয়াইল গ্রামের একমাত্র পাকা সড়কটি বালিশ্রী গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন স্থানে ভেঙে গিয়ে প্রবল স্রোতে কুশিয়ারা নদীর পানি প্রবেশ করে প্রায় ১০টি গ্রাম প্লাবিত হচ্ছে।

এর আগে শুক্রবার (১০ জুলাই) বিকেলে সড়কটি ভেঙে যায়। বিকল্প সড়ক না থাকায় এলাকার জনসাধারণ কুশিয়ারা নদী পথে নৌকা দিয়ে যাতায়াত করছেন। এদিকে কুশিয়ারা নদীর পানিতে তলিয়ে গেছে কৃষকদের আউশধান। এ ছাড়াও আমন ধানের বীজতলা ও চারা ধান বানের পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় কৃষকরা বিপাকে পড়েছেন।

বালিশ্রী গ্রামের তোফাজ্জল হোসেন রুমান বলেন, সড়কটি ভেঙে যাওয়ার কারণে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী ও সাধারণ মানুষ সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন। প্রতিদিন শত শত মানুষ এই সড়ক ব্যবহার করেন। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে ভাঙন আরও বাড়তে পারে এবং আশপাশের এলাকাও ঝুঁকির মধ্যে পড়বে।

রৌয়াইল গ্রামের মিটু মিয়া বলেন, নদীতে পানি বাড়তে থাকায় হঠাৎ করে এই সড়কটি ভেঙে যায়। এই একটি সড়কের ওপর নির্ভর করেই প্রায় ১০-১২টি গ্রামের মানুষ উপজেলা সদরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করে। এখন কয়েক কিলোমিটার ঘুরে অন্য পথে যেতে হচ্ছে। এতে সময় ও খরচ দুটোই বেড়ে গেছে। জরুরি প্রয়োজনে রোগী হাসপাতালে নেওয়া কিংবা শিক্ষার্থীদের যাতায়াতও কঠিন হয়ে পড়েছে। দ্রুত সড়কটি সংস্কারের দাবি জানাচ্ছি।

রানীগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ ছদরুল ইসলাম বলেন, রাস্তা ভাঙার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসন ও এলজিইডির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অবহিত করা হয়েছে। জনগণের দুর্ভোগ কমাতে দ্রুত বিকল্প চলাচলের ব্যবস্থা এবং স্থায়ীভাবে সড়কটি মেরামতের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছি।

জগন্নাথপুর উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) সোহরাব হোসেন বলেন, এটা আমাদের নিজেদের কাজ নয়, তবু আমরা চেষ্টা করছি।

Follow করুন এমটিনিউজ২৪ গুগল নিউজ, টুইটার , ফেসবুক এবং সাবস্ক্রাইব করুন এমটিনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলে